স্রেফ ফেলে দেওয়া বোতলকে কাজে লাগিয়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখার দুর্দান্ত এক কৌশল উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি এক উদ্ভাবক।
বাতাস ঠাণ্ডা করার এই যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইকো-কুলার’ বা পরিবেশবান্ধব কুলার। গ্রামের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন এই কুলার ব্যবহার করে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত কমাতে পারবেন।
বিদ্যুৎ ছাড়াই এই ‘এসি’ বানিয়েছেন বাংলাদেশের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার আশীষ পাল। পেশায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনী সংস্থা গ্রের ক্রিয়েটিভ সুপারভাইজার। তার উদ্ভাবিত বিদ্যুৎবিহীন এসিতে শান্তিতে ঘুমায় এখন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মাপাড়ের ২৫ হাজার পরিবার।
আশীষ পাল
এ নিয়ে দেশ-বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি । বাংলাদেশি গণমাধ্যম ছাড়াও ইয়াহু নিউজ, ফরাসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ফ্রান্স ২৪-এ আশীষের উদ্ভাবনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট `অবজার্ভার`-এ ২ জুন প্রকাশ হয়েছে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব কুলার উদ্ভাবনের খবর।
শুধু ফরাসি এই সংবাদমাধ্যমেই নয়, ইকো-কুলার বানানোর পদ্ধতি নিয়ে তৈরি করা ভিডিও ফেসবুক, ইউটিউব আর ইকো-কুলারের ওয়েবসাইটের http://www.eco-cooler. com/ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। আর এ পর্যন্ত এই ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৮ লাখেরও বেশিবার।
কীভাবে এই অসাধ্য সাধন করলেন আশীষ পাল? তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি ভারতের রাজস্থানের এক হাওয়া মহলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সে মহলের একটি ব্যাপার তাকে খুব ভাবিয়েছে। মহলের ঘুলঘুলি দিয়ে বাতাস ঢুকে কীভাবে ভেতরটা ঠাণ্ডা করে, সে সময়ে তার বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা তিনি খুঁজে পাননি। তবে তখন থেকেই বিষয়টি তার মাথায় ঘুরতে থাকে।
তিনি আরো বলেন, একদিন বাসায় তার মেয়েকে পদার্থ বিজ্ঞান পড়াচ্ছিলেন এক শিক্ষক। চাপের ফলে গ্যাস কিভাবে শীতল হয়, এই বিষয় নিয়েই তিনি কথা বলছিলেন। বিষয়টি তাকে দারুণ উৎসাহী করে তোলে। এরপর তার ভাবনার কথা বলেন প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের সঙ্গে।
এজন্য অফিসেই বানানো হয় টিনের তৈরি ঘরের কাঠামো। তারপর পরীক্ষা চালানো হয় কতটা কার্যকর তা বোঝার জন্য। তারপর তারা রাজধানীর নিকেতন হাউজিং সোসাইটির একটি বাসার ছাদেও উদ্ভাবনের নানা দিক নিয়ে কাজ করলেন। সেখানে পাওয়া সাফল্যের সূত্র ধরেই তারা `ইকো-কুলার` প্রকল্পের পথে এগোলেন।

0 comments :
Post a Comment