ফরিদপুর: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরসালেপুর গ্রামের মামাতো-ফুফাতো দুই বোন ধর্ষণ মামলার আসামি শুকুর আলী সিকদার দুবাই পালাতে পারেন বলে সন্দেহ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।
কেউ কেউ আবার বলছেন, পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে এরই মধ্যে হয়তো দুবাই চলেও যেতে পারেন শুকুর।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুবাই প্রবাসী শুকুর গত চার মাস আগে দুবাই থেকে ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে আসার কয়েকদিন পরেই তিনি ও তার আরো চার সহযোগী উজ্জ্বল খান, সিরাজ শেখ, ইলিয়াস বেপারী ও শফি মোল্লা দরিদ্র পরিবারের ওই দুই বোনকে ধর্ষণ করেন।
জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখ সকালে দুই বোন নতুন শাড়ি পরে পাশের গ্রামের আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার সময় ওই পাঁচ বখাটে তাদের জোর করে একটি ভুট্টা খেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই বোনের পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বখাটেরা। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন বখাটেরা। এ নিয়ে পরিবারটি চরম সামাজিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
অবশেষে গত ০১ জুন আদালতে মামলা দায়ের করে পরিবারটি। আদালতের নির্দেশে গত শনিবার (১১ জুন) চরভদ্রাসন থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ধর্ষণের শিকার দুই বোনের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষিতা দুই বোনের হাইভেজাইনাল সপ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছি। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই রির্পোট প্রদান করতে পারবো’।
গত রোববার (১২ জুন) ফরিদপুরের দুই নম্বর আমলি আদালতের বিচারক ফয়সাল আল-মামুনের কাছে ধর্ষণের শিকার ওই দুই বোন ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
চরভদ্রাসন থানার ওসি রামপ্রসাদ ভক্ত জানান, শনিবার রাতে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। রোববার তাদের আদালতে জবানবন্দি শেষে সোমবার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে।
তিনি জানান, ধর্ষকদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
0 comments :
Post a Comment