নাজিম বকাউল ঃ
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলায় চলছে প্রতারণার মাধ্যমে চলছে ডায়াগনষ্টিক ব্যবসা। আর এই ব্যবসাকে সহযোগিতা করছে ফরিদপুরের সিভিল সার্জনের কার্যালয়।
সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রাথমিক ভাবে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের শুধুমাত্র আবেদন করেই ব্যবসা শুরু করেছে ওই সেন্টারগুলো। ওই আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই না করে সিভিল সার্জন ঢাকা স্বাস্থ্য বিভাগে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। উপজেলার ১০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে শুধুমাত্র হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কাগজপত্র বৈধ পাওয়া গেলেও অন্য কোনো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বৈধ কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায় নাই। প্রতারণার মাধ্যমে যেসকল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো ব্যবসা করছে তাদের মধ্যে রয়েছে- কবিতা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, দি পপুলার ডায়াগনস্টিক, সনো ডায়াগনস্টিক, সানজিদা ডায়াগনন্টিক প্রমুখ। উক্ত কিনিকগুলোতে নেই কোনো যন্ত্রপাতি- যেমন টেকনিক্যাল মেশিন, প্যাথলজি ল্যাব ইত্যাদি। দক্ষ টেকনিশিয়ান ছাড়াই চলছে এই ব্যবসা। আর প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে শতশত রোগীরা। আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সূত্রে জানা যায়, এই ডায়াগনস্টিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করছে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয়। প্রতিমাসে মাসোহারা পাচ্ছে সিভিল সার্জন অফিস। মাসোহারার পাওয়ার কারণে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সিভিল সার্জন অফিস। কোনো ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান শুরু করলে প্রথমেই সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে একটি আবেদন করতে হয়। ওই আবেদন যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সঠিক যন্ত্রপাতি-কাগজপত্র পাওয়া গেছে তবেই ওই আবেদনটি সিভিল সার্জন ঢাকার স্বাস্থ্য বিভাগে লাইসেন্স দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন। কিন্তু কাগজপত্র-যন্ত্রপাতি না দেখেই উৎকোচের বিনিময়ে সিভিল সার্জন অফিস লাইসেন্সের জন্য সুপারিশ করেন।
এলাকাবাসীরা জানান, এই ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ীরা এতই প্রভাবশালী যে এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস রাখে না। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর হামলা-মামলা নির্যাতন শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক বলেন, আমরা সব ম্যানেজ করেই ব্যবসাটি পরিচালনা করছি। তার মধ্যে সিভিল সার্জন অন্যতম।

0 comments :
Post a Comment