ডিজিটাল বাংলাদেশে বর্তমানে আধুনিক মিউজিক আর কম্পিউটারাইজড ভিন্নধাচের কারিশমায় গানের শ্রোতামুগ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এখন শ্রোতা শুধু গান শুনেই থাকেনা মিউজিক ভিডিও দেখে থাকে। আশির দশকে বাংলাদেশে গান কেবল ষ্টেজে পারফরমেন্স করার অবস্থায় ছিলো আর এখন প্রতিটি গানের সাথে গানের লিরিক্স মিলিয়ে মিউজিক ভিডিও করে থাকে ফলে শ্রোতা গান শুনেই থাকে না সাথে গানের মিউজিক ভিডিও দেখে থাকে।
ফরিদপুর জেলার পশ্চিম খাবাশপুর ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহন করে শাহ্ মোঃ রেজাউল আলম রুবেল, পিতা- এম এ জলিল মিয়া পেশায় একজন ব্যাংকার, মা- রওশনারা বেগম। ফরিদপুরে এস.এস.সি পর্যন্ত লেখপড়া করেন এবং পরে বাংলাদেশ মেরিন ইনস্টিটিউট থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করে সিঙ্গাপুরে চলে যায়। সিঙ্গাপুরে সাউন্ড এন্ড অডিও’র ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর পড়ালেখা করেন। এরই মাঝে বাংলাদেশে মিউজিক প্রতিষ্ঠান সংগীতার ব্যানারে ২০০৯ সালে রুবেলের গাওয়া ৬টি গান দিয়ে দিনের শেষে শিরোনামে শিল্পী কনিকার সাথে ডুয়েট একটি অডিও এ্যালবাম বের করে। এই এ্যালবামের সখী , আধার গান ২টি শ্রোতাদের কাছে প্রসংশিত হয়। পরবর্তীতে ২০১২ ইং সালে সংগীতার ব্যানারে দেশের বর্তমান চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি মিউজিক ভিডিও রিলিজ হয়েছে। এই এ্যালবামে রাজপথ, রাজনীতি, স্বাধীনতা, গভীর রাতে ও ময়ূর রাক্ষি গানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একজন গান পাগল মানুষ রুবেলের একটি সাক্ষাৎকার নেয় সাংবাদিক আবিদুর রহমান নিপুর। সাক্ষাৎকারটি হুবহু প্রকাশ করা গেল।
সাংবাদিক নিপু – গান কি কারনে করছেন ?
গায়ক রুবেল- গান আমার মনের খোড়াক। আমি গান গাই দেশ প্রেম থেকে এবং চেষ্টা করি বাংলাদেশের মানুষের জীবন চিত্র, বাংলার অপরূপ সাজের বর্ণনা, সমাজের প্রতিটি স্তরের খেটে খাওয়া সরলসোজা মানুষের দৃশ্যপট । আর একটি ম্যাসেস তো থাকেই আমার গানে সেটা হলো- কেন সমাজে এত বৈষম্য? কেন রাজনীতির এত অপক্ষমতা? কেন পূরণ হয়না সমাজের নিচু স্তরের খেটেখাওয়া একবেলা খেয়ে আর আরেকবেলা না খেয়ে থাকা মানুষের মৌলিক চাহিদা? কেন উচ্চ বিত্ত আর নিম্ন বিত্তের পার্থক্য? এমন অনেক কেন কেন নিয়েই আমার হৃদয়ের মাঝে অনেক প্রশ্ন। যা আমি গান দিয়ে করে যাই, গান দিয়ে ধিক্কার জানাই, গান দিয়ে আহবান করি। এমন প্রশ্নের গোলকধাধার ভাষা দিয়েই আমার গান।
সাংবাদিক নিপু – আপনার গানগুলো ওয়েষ্টার্ন ধাচের কেন ?
গায়ক রুবেল – দেখুন আমাদের সমাজে নতুন প্রজন্ম কিন্তু সব সময়ই জিনিয়াস, ওরা একধাপ এগিয়ে। ওরা সব আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করে। ইন্টারনেট দিয়ে সারা পৃথিবীর খোজ খবর রাখে। একটি পার্থক্য খুজে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের বাংলাদেশের। এত ফাষ্ট জিনিয়াসদের মাঝে আমাকে যদি কোন গান উপহার দিতে হয় তাহলে সেটা ওয়েষ্টার্ন ধাচের হলেও ১০০% বাঙ্গালীয়ানা আছে বলে আমি দাবী করছি। ইন্টারনেটের ব্যাবহার এখন নতুন প্রজন্মের মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুধু আমরাই এখন বিদেশী কালচার দেখিনা বিদেশীরাও আমাদের কালচার দেখে।
সাংবাদিক নিপু – আমাদের বাংলাদেশী শিল্পিদের কি ধরনের গান আধুনিক বিশ্বে প্রশংসিত হয় বলে মনে করেন ?
গায়ক রুবেল – বাঙ্গালীর গর্ব লালন, নজরুল, রবীন্দ্র নাথ, জসীমউদ্দিন, হাজেরা বিবি সহ শতশত গুনিদের গান বাঙ্গালী সাংস্কৃতির রূপকার বিশ্বের মানচিত্রে। সেখানে তাদের গান আর পাশাপাশি অন্যান্য ফোক গান বিশ্বের সকল শ্রোতার মাঝে বাঙ্গালীর সাংস্কৃতি একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের মূল ইতিহাসটি বাংলা নিয়ে। আমিও দেশের বাইরে কনসার্টে ফোকগান গাই। আমার গাওয়া সখী তোরে লিরিক্সে একটি ফোক গান, আমার আরেকটি নির্মিতব্য নতুন এ্যালবামে ভালোবাসার সুর নামে রেকর্ড হয়েছে যা রিলিজের অপেক্ষায় আছে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে যে মিউজিক ভিডিও বাজারে আসছে তা সফল একটি প্রোডাকশন হবে বলে আমি আশাবাদি।
সাংবাদিক নিপু – রাজপথে রুবেল জীবনমুখি যে গানগুলো আপনার এ্যালবামে গেয়েছেন তার মুল ম্যাসেজ টা কি ?
গায়ক রুবেল – রাজনীতির নামে চলছে রাজ চালাকি, এটা কি সাধারন দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের সাথে প্রতারনা নয়তো? আর কত খেলে পেট ভরবে সমাজ সংস্কারদের? আর কত মানুষ হত্যায় দমবে কুলশিত রাজনীতিবিদদের ক্ষিপ্ততা? আর কত অর্থের মালিক হলে থামাবে লুটপাট করা? আর কত ক্ষমতা পেলে ক্ষমতার লোভ ঘোচাবে? হাজারো কত কত কত লাগবে তাদের। আল্লাহই দেশটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এমন সব দাবী আর প্রশ্নের কথামালায় আমার এ্যালবামটি সাজানো। আমার এ্যালবামের ম্যাসেজ এই কথাগুলোই।
সাংবাদিক নিপু – গান নিয়ে ভবিষ্যতে কি পরিকল্পনা রয়েছে ?
গায়ক রুবেল – আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলার দাবী বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই, আমি পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙ্গালীর সত্বাকে বারবার মনে করিয়ে দিতে চাই, আমি আমার পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া স্বপ্ন পূরনে বদ্ধ পরিকর। আমি গান নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমার বাংলার রূপ।
অনেকগুলো গানের মিউজিক ভিডিও করেছি। দর্শক যেভাবে গান কে ভালোবাসে আমি সব সময় সেই চাওয়ার পূর্ণতা দিতে আমার হৃদয় থেকে দেয়া সুর, আবেক থেকে দেওয়া কথা , ভালোবাসা থেকে দেওয়া ভালো কিছু আমি আমার গানের মাঝে , আমার নিজের সৃষ্টির মাঝে চেষ্ঠা করি। কতটুকু সফলতা আছে আমার গানে সেটা আমি ছেড়ে দেই আমার প্রিয় শ্রেতার কাছে আর ব্যর্থতার সবটুকু দায়ভার আমার মাথায় পেতে নেই। সবার কাছে দোয়া চাই যেন দেশের জন্য, দেশের খেটে খাওয়া সাধারন মানুষের জন্য, আমার গান একটা ভালো ম্যাসেজ দিতে পারে। মাটির টানে, মায়ের টানে, বাবার অপেক্ষার পালা শেষ করতে আর আমার বাংলা মায়ের কোটি কোটি জনতার মাঝে ফিরে আসতে মন যেন ছটফট করে। জীবন গোছাতেই সিংগাপুরে যাওয়া আর আমার প্রিয় জন্মভ’মি বাংলার মাটিতে শান্তির নিঃশ্বাস নিতে ও আমার গানের সবটুকু ভালোবাসা বাংলার আমজনতার মাঝে তুলে দিতেই বারবার ফিরে আসা। আমি যাইনি আমি এসেছি তবে কিছু করার প্রয়্যত নিয়ে নিজেকে গোছতে চেষ্ঠা করছি। সকলের দোয়া চাই।

0 comments :
Post a Comment