শাহজাহান হেলাল,মধুখালী ঃ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক মধুখালী শাখায় ঋণের নামে বিভিন্ন ভাবে কৃষকদের সাথে প্রতারনা ও ঘুষ বানিজ্যের সংবাদ পাওয়া গেছে।
উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ লাল মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক , প্রধান কার্যালয়, ঢাকা ও মহাব্যবস্থাপক-বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বিভাগী কার্যালয়, ফরিদপুর বরাবর এ ব্যাপারে দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক মধুখালী শাখায় ঋণ অথবা সাধারণ লেনদেন এর ক্ষেত্রে উৎকোচ ছাড়া কোন কাজই হয় না। রায়পুর ইউনিয়নের দায়ীত্বপ্রাপ্ত উর্দ্ধেতন কর্মকর্তা (মাঠ) মোঃ নওশাদ ১লক্ষ টাকার কৃষি ঋণ বিতরণে ১০ হাজার টাক উৎকোচ গ্রহন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তাকে উৎকোচ না দিলে কোন ঋণ প্রস্তাবই টেবিল থেকে অন্য টেবিলে যায় না। অভিযোগকারী লাল মিয়া জানান, তিনি ২.৬২ একর জমি বন্ধক রেখে ২০ এপ্রিল ২০১৫ খ্রিস্টব্দে ১৩ লক্ষ টাকা সিসি ঋণ গ্রহণ করেন । এক বছর পূর্ন হওয়ায় নবায়নের তারিখ ছিল ১৯ এপ্রিল ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ। তিনি নিয়মিত ব্যাংকে গেলেও মাঠ কর্মকর্তা নওশাদ সাহেব তার ঋণের মেয়াদ নবায়ন করতে গড়িমসি করেন। এ কাজে ঐ কর্মকর্তা তার কাছে মোটা অংকের উৎকোচ দাবী করেন । দাবীকৃত উৎকোচ না দেওয়ায় ঋণ নবায়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তার সুনাম ও প্রচুর ব্যবসায়ীক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে রায়পুর ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনি”চ্ছুক একজন কৃষক জানান, ৫০হাজার টাকা কৃষিঋণের জন্য ৫ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেও ঐ কর্মকর্তা গত ৬ মাসে ঋণ প্রদানের ব্যাবস্থা করেন নাই। ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেন ৯ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও ঋণ পাননি। মোঃ সাদেকুর রহমান পিয়ালকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ঐ কর্মকর্তা ২২হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ১বছর পর ২লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করেছেন। একই এলাকার মোহাম্মাদের নিকট থেকে ৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ১ বছর পর ৬০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে । হাটঘাটা গ্রামের মোঃ হামিদুল ইসলামকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার শর্তে ঐ কর্মকর্তা ৮হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। বেশ কিছুদিন পর তিনি ২লক্ষ টাকা ঋণ পেলেও ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের মোঃ নাসির ৭৫ হাজার ৩ শত ১০ টাকা ঋণ পরিশোধ করেও ১০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ঋণ প্রদানে গড়িমসি করা হয় বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাঠ কর্মকর্তা নওশাদ এর নিকট তার মোবাইলে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগগুলি অসত্য দাবী করে বলেন অভিযোগকারি আমার নিকট বিক্রিত জমির কাগজ পত্র নিয়ে ঐ কাগজের মালিকের ঋণের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। আমি অভিযোগকারিকে বাড়ন করে দেওয়ায় হয়তো সে আমার প্রতি বিরাগ ভাজন হয়ে অভিযোগ করে থাকতে পারেন।
ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমানের নিকট তার মোবাইলে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগপত্রের প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন অভিযোগপত্র পেয়েছি সে অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানের কাজ চলছে প্রমানিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
উল্লেখ্য ২০১৩ সালে জন্মের ৩ বছর পূর্বের দলিলের উপর ঋণ প্রদান দৈনিক গণসংহতিসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে অনুসন্ধ্যান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উক্ত শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ মোসলেউদ্দিন ও মাঠ কর্মকর্তা সৈয়দ তাহিদুল হককে অফিসিয়ালী সকল ক্ষমতা খর্ব করাসহ সাজা ভোগকরতে হচ্ছে ।
২০১৫ সালে প্রায় কোটি টাকার শষ্য ঋণের খাপলা সাংবাদিকদের নজরে আসলে সেটা বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে কৃষি ব্যাংকের উচ্চ মহলের নজরে আসে। অনুসন্ধ্যানে অনুসন্ধ্যান দল দেখতে পান গোডাউনে কোন শষ্যই রাখা হয়নি অথচ্য শাখা ব্যবস্থাপকের যোগসাজসে শষ্য গোডাউনের বিপরিতে প্রায় কোটি টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে । সাংবাদিকদের অনুসন্ধ্যানে যে সকল চাষীদের নামে শষ্য ঋণ প্রদান করা হয়েছে তাদেরকে খুজেই পাওয়া যায় নাই। @@

0 comments :
Post a Comment