ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবায় চলছে বেহালদশা। হাসপাতালের ডাক্তারসহ কর্মকর্তা কর্মচারীরা সময় সূচীর তোয়াক্কা না করে কর্মস্থলে আসেন না। এক্স-রে মেশিন প্রায় এক যুগ ধরে নষ্ট রয়েছে। ইসিজি মেশিন ভাল থাকলেও জরাজীর্ণ অবস্থায় বেকার পড়ে আছে দীর্ঘদিন। এ কারনে হাসপাতালে আসা গরীব রোগিদের বাইরের প্রাইভেট কিনিক থেকে তিন গুন টাকা বেশি দিয়ে এক্রা-রে ইসিজি করতে হচ্ছে। এখান থেকে হাসপাতালের ডাক্তাররা নিয়মিত কমিশন পেয়ে থাকেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ফলে হাসপাতাল কতৃপক্ষের এসব নিয়ে তেমন কোন মাথা নেই। হাসপাতালের ডাক্তারদের ইমাজেন্সিতে ডিউটি থাকলেও নিজের কোয়াটারে বসে ব্যক্তিগত রোগি দেখা ও হাসপাতাল ডিউটি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশির ভাগ ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে তাদের উপস্থিতি শতভাগ থাকে। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা (সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত) ডা. তাপস বিশ্বাস বলেন, আমি ২০০৭সালে এখানে যোগদান করার পর থেকে এক্রা-রে মেশিন নষ্ট দেখতে পাচ্ছি। তাছাড়া মানসপন্ন এক্রা-রে রুম না থাকায় ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। তিনি ইসিজি মেশিনের ব্যাপারে বলেন, এটি ভাল আছে। প্রয়োজনীয় রুমের অভাবে সেটি ব্যবহার করতে সমস্যা হচ্ছে। এক্রো-রে মেশিন টেকনিশিয়ান আ. রশিদ বলেন, এটির আইসি ও কি বোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরাতন ভবনের জরাজীর্ণ কক্ষে অযতেœ অবহেলায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। আ. রশিদ জানান, সরকারি মুল্য অনুযায়ী এক্রা-রে খরচ সর্বচ্চো ৮০টাকা ও সর্বনি¤œ ৬০টাকা। অথচ বাইরে কিনিকে এর খরচ ৩শ’ ৪০টাকা ও ১৬০টাকা। এক্রা-রে মেশিনের কক্ষটি ভেতরে ছাদ থেকে খসে পড়া প্লাস্টারের স্তুপ ও মাকড়সার জালে পরিপূর্ণ লক্ষ করা গেছে। ইসিজি টেকনিশিয়ান সোহেল রানা বলেন, মেশিনটি ভাল আছে । গত দুই বছরের মধ্যে মাত্র ৪টি ইসিজি করা হয়েছে। সরকারি ভাবে এর খরচ মাত্র ৮০টাকা। বাইরে কমপক্ষে ২শ’ টাকা। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রো চিকিৎসা নিতে আসা দুর্গাপুর গ্রামের হাতেম আলী ও এরশাদ সিকদার বলেন, আমাদের মত গরীব রোগিদের এত টাকা দিয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা কষ্টকর।
আজ শনিবার (০৩.০৯.১৬) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. অরুন কান্তি বিশ্বাস হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিট করতে আসেন। এ সময় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর তিনজন কর্মচারী বাদে সময় সূচী অনুযায়ী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপস্থিত পাননি বলে জানা গেছে। ওই সময় তিনি হাজিরা খাতায় সবাইকে অনুপস্থিত লিখে স্বাক্ষর করেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা। এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. অরুন কান্তি বিশ্বাস বলেন, অনুপস্থিত সবাইকে শোকজ করা হবে। এব্যাপারে স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস দেরীতে অফিসে আসার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ভবিষ্যতে সবাইকে সময় সূচী অনুযায়ী আসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

0 comments :
Post a Comment