মুস্তাফিজুর রহমান, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ‘মা’ইলিশ নিধনের মহোৎসব। জানা যায় এক শ্রেনীর লোভী জেলেদের পাশাপাশি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ নিধোন করছে স্থানীয় অনেকে। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অনেক বাড়িতে ফজরের আযানের পূব থেকে সকাল পর্য়ন্ত বসছে ইলিশের বাজার ৩০০/৩৫০ টাকা কেজি দরে কেনা বেচা হচ্ছে মনকে মন মাছ। জানা যায় পদ্মা নদী বেষ্টিত চরভদ্রাসন উপজেলার কিছু এলাকা কাশঁবনে ঘেরা থাকায় অসাধু জেলেরা সুযোগ বুঝে দিনে-রাতের বিভিন্ন সময়ে মাছ শিকার করে চরাঞ্চলে ও পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার জল সিমানায় গা ঢাকা দিয়ে থাকে এবং সুযোগ বুঝে আগে থেকে ঠিক করে রাখা খরিদ্দারের নিকট বিক্রি করে মাছ। সুত্র জানায় উপজেলার মৃধাডাঙ্গী,হাজিডাঙ্গী,জাকেরের শুরা,হাজিগঞ্জ,চরশালেপুরের বিভিন্ন স্থান সহ বিশেষত মাথাভাঙ্গা গ্রামের শেষ মাথায় পদ্মা নদী সংলগ্ন রেহাই রামনগর খাল পাড়ের বিভিন্ন বাড়িতে হচ্ছে ইলিশ মাছ কেনা বেচা। চলতি মাসে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে জন সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে অনেক প্রচার প্রচারনা চালায় উপজেলা প্রশাসন ও মত্স অধিদপ্তর।
সেই সাথে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরন,পরিবহন,মজুত,বাজারজাতকরন ও বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। জানা যায় ইলিশ মাছ রক্ষায় প্রতিদিন পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে জাল,জেলে ও মাছ আটক করে জেল জরিমানা করা হলেও অনেক জেলে সুকৌশলে নিশেধাজ্ঞা অমান্য করে শিকার করছে মাছ। উপজেলা মত্স কর্মকর্তা মালিক তানভির হোসেন জানান ‘ইলিশ মাছ রক্ষায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ’।
শংশ্লিষ্ট সুত্র জানায় গত কয়েক দিনে পদ্মা নদীতে ইলিশ রক্ষায় পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি)পারভেজ চৌধুরী। উক্ত অভিযানে কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ নিধনের দায়ে এ পর্যন্ত ১০ জেলেকে ১মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংশ ও ৫ মন ইলিশ মাছ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ইয়াতিম খানায় বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।



0 comments :
Post a Comment