মুস্তাফিজুর রহমান, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মারার দায়ে গত ১৮ দিনে ২৮ জেলেকে আটক করেছে শংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এ সকল জেলেকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেয়া হলেও তবুও থেমে নেই ইলিশ নিধোন ! জানা যায় এক শ্রেনীর লোভী জেলেদের পাশাপাশি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ নিধোন করছে স্থানীয় অনেকে। অনুসন্ধানে জানা যায় জেলেরা নদীতে নামার আগে থেকে শুরু করে মাছ মারা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইনফরমেশন দাতারা উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে থেকে অভিযান পরিচালনা কারি সদস্যদের গতিবিধি লক্ষ করে এবং মোবাইলে খবর পৌছে দেয় নদীতে থাকা জেলেদের নিকট। পদ্মা নদী ঘেষা উপজেলাটির কিছু এলাকা কাশঁবনে ঘেরা থাকায় অসাধু জেলেরা ফোন পাওয়া মাত্র চরাঞ্চলের কাশ বন ও পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার জল সিমানায় লুকিয়ে থাকে।
নদীতে অভিযান শেষ হলে জেলেদের নিকট সবুজ সংকেত পৌছান হয় এবং সুযোগ বুঝে জাল ও মাছ নিয়ে তারা তীরে ফেরে। নদীর তীর ঘেষা অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি পদ্মা নদীর বিভিন্ন খেয়া ঘাট দিয়ে ভোর রাতে হাত বদল হয় এ সব মাছের চালান। তা আবার ভোর থেকে শুরু করে আগে থেকে ঠিক করে রাখা খরিদ্দারের নিকট বিক্রি করা হয়। প্রথম দিকে ইলিশ ৩ শত হতে ৩৫০ টাকা বিক্রি হলেও এখন মাছ মারায় অনেক ঝুকি থাকায় দাম বেড়ে ৫০০/৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন শুধু জেলেরাই নয় এই ইলিশ কেনা বেচায় অনেক অসাধু মাছ ব্যাবসায়ী জড়িত রয়েছে। চলতি মাসে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে জন সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে অনেক প্রচার প্রচারনা চালায় উপজেলা প্রশাসন ও মত্স অধিদপ্তর। সেই সাথে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরন,পরিবহন,মজুত,বাজারজাতকরন ও বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উপজেলা মত্স কর্মকর্তা মালিক তানভির হোসেন জানান ‘ইলিশ মাছ রক্ষায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ’ এ পর্যন্ত ইলিশ রক্ষায় গত ১৮ দিনে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ৩২ বার অভিযান চালিয়ে ২৮ জেলেকে আটক করা হয়েছে। যাদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে জেল প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পারভেজ চৌধুরী। এ পর্যন্ত অভিযানে আনুমানিক ৫০ হাজার মিটর কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংশ করার পাশাপাশি ৫ মন ইলিশ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ইয়াতিম খানায় বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।


0 comments :
Post a Comment