ফরিদপুরে যাচাই বাছাই শুরু : কলংক থেকে মুক্তি চায় মুক্তিযোদ্ধারা

ফরিদপুর প্রতিনিধি :
দেশের ৯৪ উপজেলার সাথে প্রথম পর্যায়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও সদরপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কথাকলেও হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত হয়ে গেছে সদরপুরের যাচাই বাছাই। এদিকে বোয়ালমারীতে যাচাই বাছাই শুরু হওয়ায় উৎফুল্ল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা। তারা মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধারা প্রবেশ করে কলংকিত করেছে মুক্তিযোদ্ধাদের, তাই এ বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাই তালিকায় থাকবেন এবং “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা” কলংক থেকে মুক্তি আসবে বলে মনে করছেন তারা।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাছাই কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখাযায় বাছাই কাজর্য চলা ভবনের সামনে ক্রাচে ভর করে দাড়িয়ে আছেন উপজেলার চুকিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশে কর্মরত থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। ১৯৭১সালের ০৯ডিসেম্বর বোয়ালমারীর মজুরদিয়ায় যুদ্ধশেষে ধোপাডাঙ্গা-চাঁনপুরের দিকে মার্চ করে দলটি। এসময় বিধ্বস্ত নড়িখালী ব্রীজের নিচে দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় শত্রুপক্ষের পুতে রাখা মাইন বিষ্ফোড়নে আহত হয়ে ডান পা হারান তিনি। 

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধে পা হারানোর পরও লাল বার্তায় নাম ওঠেনি তার। তাই যাচাই বাছাইয়ে অংশ নিতে এসেছেন তিনি। নতুন তাািলকায় নাম তোলা নিয়ে সংশয়ে থাকা মানুষটি জানান, বিগত সময়ে অ-মুক্তিযোদ্ধাদের দৌরাত্মে কোনঠাসা ছিল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা।

সিরাজুলের গ্রুপের কমান্ডারসহ অন্য সহযোদ্ধারা মনে করেন, লাল বার্তায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুলের না না ওঠা দু:খজনক। তাই এবার যাতে তার নাম ওঠে সে দাবী তাদের।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হওয়ায় খুশি জেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা। বোয়ালমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডে ডেপুটি কমান্ডার জহুরুল ইসলাম ও উপজেলা কমান্ডার অধ্যাপক আব্দুর রশীদ মনে করেন বিভিন্ন সরকারের সময়ে তালিকা প্রস্তুত হওয়ায় ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঢুকে পড়েছে অমুক্তিযোদ্ধারা। যা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে কলংকজনক। এবার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত হবে বলে মনে করছেন তারা।

এছাড়া রাজনৈতিক বা নানা কারণে যারা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এতদিনেও যুদ্ধে অংশগ্রহনের পরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি অনেকেই, তারাও মনে করছেন সুষ্ঠ এ প্রক্রীয়ার মাধ্যমে তালিকায় ঠাই হবে তাদের। তালিকায় ঠাই না পাওয়া প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাজী হাসান ফিরোজ জানান, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থাকতে না পারার বেদনা নিয়েই পরপারে চলে গেছেন তার বাবা। এবছর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার যে তালিকা করছে তাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ঠাঁই পাবেন বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে এরই মধ্যে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় থাকা বোয়ালমারীর ৫৫জন ও সদরপুরের ১৬৬জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পড়েছে। যদিও অভিযোগ হওয়াদের অনেকের দাবী রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্ধেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ হওয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় থাকা আব্দুল হকও একই মত পোষন করেন।

সবকিছুর পরেও সকলের সহযোগীতায় শান্তিপূর্ণভাবে একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে দাবী প্রশাসনের। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আরা আক্তার পলি জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারীর মধ্যেই যাচাই বাছাইয়ের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, যাচাই-বাছাইয়ে বোয়ালমারীতে ৫১৬জন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে এক তালিকায় নাম থাকা ১৩৩জন অংশ নেবেন। #

Share on Google Plus

About faridpur info 24

Faridpurinfo24.com-ফরিদপুরের তথ্য বাতায়নে আপনাদের স্বাগতম। ফরিদপুরের সকল খবরাখবর আপনাদের কাছে পৌছে দিতেই আমাদের এই প্রয়াশ। আপনার সকল মতামত ও বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন। সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. মনিরুল ইসলাম টিটো ফরিদপুর । মোবাইল: ০১৭১৬৩৪৬০৩০

0 comments :

Post a Comment