ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের দুর্গম পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে ভুট্টার আবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষকরা। ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চরের বুকজুড়ে আবাদ হচ্ছে ভুট্রার।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ভুট্রাচাষী মো. মোস্তাক আহমেদ পাল জানান, চলতি বছর তিনি ৬৭হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ভাল ফলনের প্রত্যাশা করছেন তিনি। তিনি জানান, কয়েকবছর আগে বিশ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেন। প্রথম বছর ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় প্রতিবছর বাড়াতে থাকেন ভুট্রার আবাদ।
শুধু মোস্তাক পালই নয়, চরের বেশীর ভাগ চাষী এবার ভুট্টার আবাদ করেছেন। চরের কৃষকরা জানান, চরের বালুযুক্ত মাটিতে সব ধরনের ফসল হয়না। তারা জানান, বাদাম, কালাইসহ হাতেগোনা কয়েকটি ফসলের আবাদ হয়ে থাকে চরে। এর মধ্যে ভুট্রা আবাদ কম ঝুঁকির ও লাভজনক হওয়ায় ভুট্রা আবাদে ঝুঁকছেন চাষীরা। চাষীরা দাবী করেন, অন্যান্য ফসল আবাদ করে খরচের টাকাও ওঠেনা বলে তারা ভুট্রা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন।
চাষীরা জানান, প্রতি হেক্টোর জমিতে ভুট্টা আবাদ করতে খরচ হয় প্রায় ৭২হাজার টাকা। আর ১হেক্টোর জমিতে ৩শ মন ভুট্টা পাওয়া যায়। যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর ফরিদপুর জেলায় ৪৪৩হেক্টোর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।
ভুট্রাচাষীরা মনে করেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ব্যাপক লাভবান হবেন তারা। তারা জানান, ব্যাপকভাবে চরে ভুট্রার আবাদ হওয়ায় বিপুল পরিমান শ্রমিক দৈনন্দিন লেবার হিসেবেও কাজ করে বলে দাবী তাদের।
ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার মিয়া বলেন, ভুট্টা চাষে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। ভুট্টা চাষে খরচ অনেক কম । স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়া যায় ভুট্রা চাষে। আর সে কারনেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ। #


0 comments :
Post a Comment