বাগান থেকে ড্রাগন ফল তুলছেন শওকত হোসেন
আনোয়ার হোসেন শাহীন, মাগুরা : মাগুরা সদর উপজেলার রাওতড়া গ্রামের শওকত হোসেন নতুন জাতের ড্রাগন ফল চাষ করে সফল হয়েছেন। মাত্র ৪০ শতক জমিতে ড্রাগন চাষে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি ৪০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন।
এ মৌসুমে তার বাগান থেকে কমপক্ষে ২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। শুধু জৈব সার ব্যবহার করে বিনা খরচে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর তিনি এ ফলন পাবেন। তার এই সফলতা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসছেন তার ড্রাগন বাগান দেখতে।
শওকত হোসেন জানান, আগে তিনি ধান, পাট, সরিষা, মসুরের মতো গতানুগতিক চাষাবাদ করতেন। কিন্তু তাতে তেমন লাভ হতো না। একপর্যায়ে পেঁপে ও পেয়ারা চাষ শুরু করেন। তাতেও খরচের তুলনায় লাভ কম। তারপর পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের কারণে এসব ফসল চাষ নিয়ে যখন বিপাকে ছিলেন, তখন মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলাম বিদেশি ফল ড্রাগন চাষের পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় নিজের ৪০ শতক জমি নির্বাচন করে ড্রাগন বাগান গড়ার পরিকল্পনা করেন।
২০১৪ সালে মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে বিনা মূল্যে ৫০০ ড্রাগন চারা ও শতাধিক সিমেন্টের পিলার নিয়ে বাগান তৈরি করেন। খেত তৈরি, গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করতে তার মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরে বছর থেকেই গাছে ড্রাগন ফল আসতে শুরু করে। প্রথমবার ফলানো অল্পসংখ্যক ফল তিনি আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেন। এ বছর প্রায় প্রতিটি গাছে অনেক ফল ধরেছে।
গেল জুন মাসের শুরু থেকে তিনি গাছ থেকে পাকা ড্রাগন ফল তুলতে শুরু করেছেন। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ কেজি করে ড্রাগন পাচ্ছেন।
ঢাকার ব্যাপারীরা বাগান থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অগ্রিম টাকার ভিত্তিতে গাড়িতে করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় বাজারেও ড্রাগন ফলের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। জুন থেকে শুরু করে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত গাছে একই ধরনের ফল পাবেন। যা থেকে তিনি এ মৌসুমে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
শওকত জানান, নতুন ফল ও লাভ বেশি হওয়ায় প্রতিদিন অনেক মানুষ এসে তার বাগানে ভিড় করছেন। তার দেখাদেখি এ বছর এলাকার আরো ৪-৫ পাঁচজন কৃষক ড্রাগন বাগান করেছেন। ফলের পাশাপাশি সারা দেশে এ চাষ ছড়িয়ে দিতে এ বছর থেকে তিনি চারা উৎপাদন শুরু করেছেন।
মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের পরিচালক উদ্যানতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, মেক্সিকানের এ ফল বর্তমানে চীন, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ব্যাপক চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ড্রাগন ফল চাষে উপযোগী। প্রচণ্ড খরায় একবার সেচ ও জৈব সার দেওয়া ছাড়া ড্রাগন চাষে কোনো বাড়তি খরচ নেই।
রোগবালাইমুক্ত ড্রাগন গাছ একবার লাগালে শুধু পরিচর্যা করলে ৩০ থেকে ৪০ বছর একনাগাড়ে ফল দেয়। জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গাছে ফল পাওয়া যায়। এ ফল চাষ অত্যন্ত লাভজনক। মাগুরা হর্টিকালচার থেকে চারা নিয়ে যে কেউ ড্রাগন চাষ করতে পারেন।
ড্রাগন ফল মিষ্টি ও হালকা টক জাতীয় স্বাদের হয়ে থাকে। এ ফলের নানা পুষ্টিগুণ রয়েছে। বিশেষ করে এ ফল ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্তচাপ, কলেস্টেরল ও শরীরের চর্বি কমায়। যে কারণে বাজারে ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।
0 comments :
Post a Comment