মিজান বাবু , নগরকান্দা (ফরিদপুর) :
এমন একদিন ছিলো যেদিন ফরিদপুরের নগরকান্দায় কৃষকেরা আবাদী জমিতে প্রচুর আউশ ধানের আবাদ করতেন। তবে কালক্রমে এ উপজেলার কৃষকেরা আবাদী জমিতে পাট ও পিয়াঁজ চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠায় আউশ ধানের আবাদ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। নগরকান্দার কৃষকেরা মনে করেন আউশ ধান আবাদ একটি অলাভজনক ফসল। তাইতো তারা দিন দিন আউশ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঋতুর পালা বদলে আউশ মৌসুম প্রতি বছর ফিরে আসলেও, এখন আর ফিরে আসতে দেখা যায় না আউশের আবাদ। আশার কথা হচ্ছে, আউশ আবাদের হারানো দিন ফিরিয়ে আনার লক্ষে কৃষি সম্প্রাসারন অধিদপ্তর অবিরাম গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল আউশের জাত উদভাবনের। গবেষণা চলছে, কি করে আউশ উচ্চ ফলনশীল করে কৃষকের কাছে অধিক লাভজনক করে তোলা যায়। অধিক জমিতে আউশ আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে চলছে সব রকম প্রচেষ্টা।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কৃষকদের উন্নত জাতের আউশ আবাদে আগ্রহী করে তোলার লক্ষে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আউশ আবাদে প্রনোদনা কর্মসুচি গ্রহন করেছেন। এ লক্ষে ২০১৬-২০১৭ সালে আউশ মৌসুমে প্রনোদনা কর্মসুচির মাধ্যমে উপজেলার ৪০ জন কৃষককে বিনামূল্যে বীজ, সার ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে ৪০ বিঘা আবাদী জমিতে উন্নত জাতের আউশ আবাদ করা হচ্ছে। এ বছর আউশ মৌসুমে উপজেলার ১০ জন কৃষককে জনপ্রতি এক বিঘা জমিতে প্রনোদনা কর্মসুচির মাধ্যমে নেরিকা জাতের আউশ আবাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে (এক বিঘা জমিতে আবাদের জন্য) ১০ কেজি বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে প্রদান করেছে। এছাড়া জমিতে সেচ এবং আগাছা দমন করতে প্রত্যেক কৃষককে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আট’শত টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলার ৩০ জন কৃষককে জনপ্রতি এক বিঘা জমিতে প্রনোদনা কর্মসুচির মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ আবাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে (এক বিঘা জমিতে আবাদের জন্য) ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে প্রদান করেছে। এছাড়া জমিতে সেচ এবং আগাছা দমন করতে প্রত্যেক কৃষককে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে চার’শত টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ বছরের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে জমিতে বীজ রোপন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং প্রকৃতি অনুকুল থাকলে আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে। বিঘা প্রতি (৩৩ শতাংশ) ১৪ থেকে ১৫ মন ধান পাওয়া যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আউশ আবাদে তেমন কোনো খরচ নেই বললেই চলে। জমিতে বেশি সেচ দিতে হয় না, কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। খুবই কম খরচে উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল আউশ আবাদ করে অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষিবীদরা।
নগরকান্দায় ব্যাপক হারে আউশ আবাদ ফিরিয়ে আনার লক্ষে উপজেলায় প্রনোদনা কর্মসুচির মাধ্যমে উন্নত জাতের আউশ আবাদ করে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রনোদনা কর্মসুচির কয়েকজন সদস্য কৃষক জানান, আগের দিনের মতো এখন আর আউশ আবাদ অলাভজনক নেই। এখন আউশ আবাদ করে, কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে নগরকান্দার সব কৃষককে সচেতন করতে পারলে, উপজেলার অধিকাংশ আবাদী জমিতে আউশের আবাদ হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, নেরিকা জাতের এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ আবাদ করতে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছে। কারন এ ধরনের ধান আবাদে খরচ খুবই কম, সেচ ও কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না, রোগ বালাই কম হয়। এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আউশ আবাদ করে ১৪ থেকে ১৫ মন ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয়। প্রনোদনা কর্মসুচির মাধ্যমে কৃষকরা আউশ আবাদে ফিরে আসছে। আশা করা হচ্ছে, কয়েক বছরের মধ্যে এ উপজেলায় ব্যাপক হারে আউশ আবাদ করা সম্ভব হবে।

0 comments :
Post a Comment