নাজিম বকাউল :
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মছলন্দপুর মৌজার এস এ খতিয়ান ২৯৪৪ দাগ নং ৩৮১২। কামারখালী বাজারের ১৯৩৪ সাল থেকে বসবাস করে আসছে কালিদাস সাহার পরিবার। উত্তরসূরীরা স্কুলসহ অনেক জায়গা জমি দান করে যান সেবা খাতে। কালিদাস মারা যাওয়ার পরে জমিজমার উত্তরাধীকারী হন দুই পূত্র। কামারখালী বাজারে অবস্থিত ১৮ শতাংশ জমির দুই পূত্র কুমারেন্দ্র সাহা ও শেখরেন্দ্র সাহাকে রেখে দিয়ে যান পিতা কালিদাস সাহা। এলাকার প্রভাবশালী এক আওয়ামীলীগ নেতার ইন্দনে জনৈক নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তিকে দিয়ে ঐ জমির মালিকানা দাবী করে এলাকার চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ করেন। কামারখালী বাজার কমিটি এ বিষয়ে একটি সালিসে বসে। উক্ত সালিসে নুরুল ইসলাম জমির কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারে নাই। ঐ প্রভাবশালী ব্যাক্তি প্রথম সালিসে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে শেখরেন্দ্র সাহার বাড়ীর পার্শ্ববর্তী আহম্মেদ শেখ কে দিয়ে আবার চেয়ারম্যানের নিকট জমির মালিকানা দাবী করে মধুখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এলাকাবাসী জানায়, পাশ্ববর্তী আহম্মেদ শেখের জমির প্লট আলাদা এবং তার জমির ঐ মৌজার ৩৮০৯ দাগে। শেখরেন্দ্র সাহার জমি দাগ নং ৩৮১২। আহম্মেদ শেখের জমির মালিকানা দাবী মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে কামারখালী বাজার কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মধুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শিপা, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, কামারখালী ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ মৃধা সহ আরো অনেকে জানান, ১৯৩৪ সাল থেকে এই সংখ্যালঘু পরিবারটি কামারখালী বাজারে বসবাস করে আসছে। এ পরিবারটির এলাকার জন্য অনেক অবদান আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীরা কামারখালী বাজারে একাধিক পাটের গুদাম জ্বালিয়ে দেয়। এবং এদের বাড়ীটি দখল করে নেয়। এদের অপরাধ ছিল এরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করে। আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই বাড়ী পাটের গোডাউন শেখরেন্দ্র সাহাদের। শতবর্ষ পরে কিভাবে এই জমির মালিকানা দাবী করে আহম্মেদ শেখ গংরা। এতদিন কেন মালিকানা দাবী করে নাই। এতেই প্রতিয়মান হয় এই সংখ্যালঘু পরিবারটির বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করে বাড়ী, ঘর ও জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শেখরেন্দ্র সাহা জানান, আমাদের বাড়ীর পরিত্যাক্ত জমিটি পতিত অবস্থায় ছিল। সাম্প্রতিক ঐ জমির উপরে পুনরায় পাটের গোডাউন তৈরি করতে গেলে প্রভাবশালী একটি মহলের ইন্দনে আহম্মেদ শেখ ও নুরুল ইসলাম নামের ব্যক্তিদের দিয়ে বাধা প্রদান করে এবং জমি দখলের পায়তারা করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। থানা কর্তৃপক্ষ শত বছরের পৈতৃক সম্পত্তির উপর গোডাউন নির্মানেও বাধা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে কামারখালী ইউ.পি. চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান বাবু জানান, আমি ছোটবেলা হতেই দেখেছি এই বাড়ী, জমি, গোডাউন শেখরেন্দ্র সাহাদের তারপরও আমার করার কিছু নেই। আমার নিকট অভিযোগ এসেছে জমির মালিকানা নিয়ে তাই আমি এই জমির উপর গোডাউন তৈরি করার নিষেধ করেছি।
0 comments :
Post a Comment