ফরিদপুর প্রতিনিধি :
খেজুর গাছ কমে যাওয়াসহ নানা কারণে ঐতিহ্য হারাচ্ছে ফরিদপুরের খেজুর গুড়। এক সময় এ জেলা থেকে আশেপাশের জেলায় খেজুর গুড় পাঠানো হলেও এখন এ জেলার চাহিদা মেটাতেই অন্য জেলা থেকে গুড় আমদানি করতে হয়। যদিও নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও একনো কেউ কেউ তৈরি করছেন উৎকৃষ্টমানের খেজুর গুড়। আর কৃষি বিভাগের দাবী ঐতিহ্য ফেরাতে প্রতি বছর রোপন করা হচ্ছে খেজুর গাছ।
কয়েকজন গাছী জানান, নানা কারণে কমছে গাছ। গাছ কমে যাওয়ায় এখন অনেক দুরে দুরে গিয়ে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হয়, যা কষ্টসাধ্য। এছাড়া উৎপাদন খরচ অনুযায়ী মূল্যও পাওয়া যায়না বলেও অভিযোগ গাছেিদর। তারা দাবী করেন বাজার জুড়ে রয়েছে চিনি মিশ্রিত ভোজাল গুড়। যা প্রতিকেজী মাত্র ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে স্থানীয় গাছীদের দাবী তাদের এক কেজী গুড় উৎপাদনে মান অনুসারে দুইম থেকে আড়াউম টাকা খরচ হচ্ছে। এতে তারা ভেজাল গুড়ের প্রভাবের কারণে কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন।
এদিকে নানা প্রতিকুলতার পরও কেউ কেউ ধরে রেখেছেন তাদের পৈত্রিক পেশা। উৎপাদন করছেন উৎকৃষ্ঠ মানের খেজুর গুড়। তবে গাছের অভাবে দুর দুরান্তে ঘুরে ঘুরে গাছ কেটে রস সংগ্রহ করতে হয় তাদের। জেলার সদর উপজেলার বিষœুপুর গ্রামের গাছী মো. আনু জানান, তারা সর্বোৎকৃষ্টমানের সাদা রঙোগর খেজুর গুড় উৎপাদন করে থাকেন। যা বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা বাড়ীর উপর থেকে কিনে নিয়ে যান। এ গুড় মান অনুসারে তিন থেকে চারশ টাকায় বিক্রি হয়।
স্থাণীয়রা জানান, নানা ধরণের পিঠা তৈরিতে খেজুর গুড়ের জুড়ি মেলা ভার। শীতের সময় খেজুর গুড়ের পিঠা তৈরি করে আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত করে খাওয়ানোসহ আত্মীয়বাড়ীতে পাঠানোর রেওয়াজ দীর্ঘদিনের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবী, ঐতিহ্য ফেরাতে গত পাঁচ বছরে জেলা জুড়ে লক্ষাধিক খেজুর গাছ রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২-১৩ মৌসুমে ১৯হাজার ৭৫টি, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ২০হাজার ৪শ ৫৫টি, ২০১৪-১৫ মৌসুমে ২১হাজার ৪৪৭টি এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে ২৪হাজার ৮৭৯টি খেজুর গাছের চারা রোপন করা হয়েছে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। চলতি বছর ২০১৬-১৭ মৌসুমে ২৯হাজার ৪০৫টি চারা রোপনের লক্ষমাত্র নির্ধরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ফরিদপুরের খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ফেরাতে এখনি উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন। #
0 comments :
Post a Comment