ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সদরপুরে স্থানীয় (ফরিদপুর-৪ আসন) সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থকদের সাথে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থিত সদরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উপজেলা সদর ইউনয়নে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সদরপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা সমন্বয় সভা চলছিল। সভা চলাকালে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমানের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সভাস্থলে সবাই উত্তেজিত হলে খবর পেয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকরা প্রশাসন চত্ত্বরে অবস্থান নেয়। পরে দু’পক্ষের সমর্থকদের মাঝে ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। দুই পক্ষের সমর্থকরাই লাটিসোটা নিয়ে উপজেলার ১কিলোমিটার সড়ক জুড়ে অবস্থান নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সদরপুর চন্দ্রপাড়া সড়কে দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার সদরপুর প্রতিনিধি তোফাজ্জেল হোসেন টিটুসহ আহত হয় ১০ ব্যক্তি। গুরুতর অবস্থায় তাকে সদরপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টিটুর শারিরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদরপুর থানার ওসি হারুন আর রশিদ জানান, দুই পক্ষের উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সদরপুর থানা পুলিশের একাধিক দল শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেয়। তিনি বলেন, এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক টিটু জানান, তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা, মুঠোফোন ও তার মোটর সাইকেল ভাংচুর করে কাজী শফিকুর রহমানের উত্তেজিত সমর্থকেরা।
এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক উপজেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় সদরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নে ১৪৪ধারা জারি করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা) র্যাব, পুলিশের একাধিক দল এলাকায় টহলরত অবস্থায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা সদর ইউনয়নে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্তু জারিকৃত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে জানান তিনি ।

0 comments :
Post a Comment