ফরিদপুর প্রতিনিধি :
অনুকুল আবহাওয়ার কারণে এবছরও ফরিদপুরে বাম্পার ফলন হয়েছে পেয়াজ দানার। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের প্রত্যাশা স্বাচ্ছন্দে এ পেঁয়াজ দানা ঘরে তুলতে পারলে হাজার কোটি টাকার পেঁয়াজ দানা উৎপাদন করতে পারবেন তারা।
ফরিদপুরের সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ও ভাষানচরসহ বিভিন্ন মাঠজুড়ে আবাদ হচ্ছে পেঁয়াজ বীজের। ধান-পাটসহ অন্যান্য ফসল কম লাভ জনক হওয়ায় এবং পেঁয়াজ দানা আবাদ অধিক লাভজনক হওয়ায় এখন পেঁয়াজ দানা আবাদে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এতে প্রতি বছরই বাড়ছে পেঁয়াজের আবাদ।
অম্বিকাপুর মাঠের পেঁয়াজ দানা আবাদকারী মো. ককতার হোসেন ও ভাষানচর মাঠের দানা আবাদকারী আবু সাঈদ চৌধুরী বারী জানান, স্থাণীয়ভাবে প্রচুর পরিমানে পেঁয়াজ দানা উৎপাদিত হলেও কোন হিমাগার না থাকায় ঝুঁকিতে থাকেন তারা। এমনকি সংরক্ষণ করতে না পারায় স্বল্পমূল্যে দানা বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকরা। কৃষকদের দাবী এ বীজ বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করলে আরো বেশী লাভবান হবেন কৃষকরা।
কয়েকজন পেঁয়াজদানা আবাদবারী জানান, দানা আবাদ অত্যন্ত ব্যায় বহুল হওয়ায় অনেক চাষী এনজিও ও মহাজনের থেকে ঋণ করে চাষাবাদ করে থাকে, এতে অধিক হারে সুদ পরিশোধ করে খুব বেশী লাভবান হতে পারেননা বলে দাবী কৃষকদের। তাদের মতে সহজ শর্তে এবং বারোমাসি মেয়াদে ঋন প্রদান করা সম্ভব হলে এ পেঁয়াজ দানা আবাদে বিপ্লব ঘটাতে পারে তারা।
কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল বাশার মিয়া জানান, কৃষকদের দানা আবাদের ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগীতা করা হয়ে থাকে। প্রদান করা হয় কৃষি উপকরণও। তিনি জানান, ফরিদপুরের উৎপাদিত দানা মান সম্পন্ন হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে এ দানার বেশ চাহিদতাও রয়েছে। তিনি আরো জানান, এবছর ফরিদপুরে এক হাজার কোটি টাকার পেঁয়াজ দানা উৎপাদিত হবে।
পেঁয়াজ দানা আবাদকারীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ফরিদপুরে কালেঅ সোনা খ্যাত পেঁয়াজ দানা ব্যাপক হারে উৎপাদন হওয়ায় পেঁয়াজ দানাকে জেলার ব্র্যান্ডিং পন্যের তালিকাভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফরিদপুরে এ বছর ২৫শ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ দানা আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ১৮শ ৫২ মেট্রিকটন দানা উৎপাদিত হয়ে। যার বাজার মূল্য এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। #
0 comments :
Post a Comment