ফরিদপুরে ছেলে আজিজ আব্দুল্লাহ সাদী (২২) হাতে মারাত্মক জখম হয়ে মারা গেছেন মা ফাতেমা পারভীন (৫২)। এ ব্যাপারে ছেলেকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামালাদয়ের করেছেন বাবা নজরুল ইসলাম ।
ফরিদপুর শহরে গত বুধবার রাতে ফাতেমা পারভীন মৃত্যু এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে কোতয়ালী থানায় মামলা হওয়ার এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাতেমা পারভীন ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহল্লার রেহানা বেগমের ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের স্ত্রী। নজরুল ইসলাম বিআরডিবির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক)। নজরুল-ফাতেমা দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে আব্দুস হাদী তৃতীয়। সাদী উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বর্তমানে ঢাকার ড্যাফডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন।
ফরিদপুরের ভাড়া বাসাতে ফাতেমা পারভীন, তাঁর স্বামী, সাদী ছোট মেয়ে ও ছোট ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। সাদী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল।
নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মানসিক ভাবে বিকারগ্রস্থ আব্দুস সাদীকে নিয়ে মা ফাতেমা পারভীন গত বুধবার বিকেলে শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারের উদ্দেশ্যে আসেন। পরে সাদী সুপার মার্কেটের পিছনে মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে আহত করে পালিয়ে যায়। সাদী পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই মার্কেটের এক ওষুধ বিক্রেতাকে বলে যার, এক বৃদ্ধা পাশের গলিতে আহত হয়ে পড়ে আছেন, আপনারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। একই খবর সাদী তার ছোট বোন মারিয়া তামান্নাকে মুঠোফোনে দেয়।
এলাকাবাসী ফাতেমাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। ফরিদপুর মেডিকেল থেকে ফাতেমা বেগমকে ঢাকায় স্থনান্তর করার সময় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট এলাকায় মারা যান ফাতেমা পারভীন।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফাতেমা পারভীনের লাশ ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌন ১টার দিকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, তিনি দুইদিন আগে জরুরী কাজে ঢাকা গিয়েছিলেন। বুধবার রাতে তিনি মুঠোফোনে এ খবর জানতে পারেন। তিনি বলেন, তার ছেলে সাদী মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান, এ ব্যাপারে বাবা নজরুল ইসলাম ছেলে সাদীকে একমাত্র আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলাদায়ের করেছেন। সাদী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। #

0 comments :
Post a Comment